সিলেটের ক্যাথলিক ডায়োসিসের জমি দখলের পায়তারা

প্রকাশিত: ৪:৪০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২০

সিলেটের ক্যাথলিক ডায়োসিসের জমি দখলের পায়তারা

আদালত ভুমি সংক্রান্ত মামলা খারিজ করে দিলেও স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জোড় পুর্বক সিলেটের ক্যাথলিক ডায়োসিসের বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে আতংকে ও ভয়ের মাঝে জীবনযাপন করছেন ডায়োসিয়েসের সংখ্যালঘু মানুষজন।

গত সোমবার সকালে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ভাড়াটে কয়েকজন মাস্তান সিলেট সদর উপজেলার পরগনাবাজার এলাকার খুনিরচক ওই জমিতে এসে কাজ করা শ্রমিকদের হুমকি দেয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা ।

এসময় তারা সেখানে পিলার দেওয়ার চেষ্টা করে তখন স্থানীয়রা প্রতিহত করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে লাগানো প্রায় ৫০ টি গাছ উপড়ে ফেলে নষ্ট করেছে এবং ২৫ লক্ষ টাকা দাবি করেছে। এই টাকা না দেওয়া হলে আবারোও আক্রমনের হুমকি দেয়। এরাই রোববার রাতে জমি দখল করতে সাইনবোর্ড লাগানোর চেষ্টা করেছিল।

সিলেটের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করা বিশেষভাবে ক্যাথলিক সম্প্রদায়কে নিয়ে কাজ করা সিলেট বিভাগের প্রধান কার্যালয়ে এই ধরণের ভয় দেখিয়ে আতঙ্কিত করা এবং কর্মচারী সদস্য ও শ্রমিকরা এখন ভয়ের মাঝে জীবনযাপন করছেন।

সিলেটের ক্যাথলিক ডায়োসিসের দেওয়া তথ্য অনুসারে, বিশপের বাসভবন এবং অফিস সংলগ্ন একটি স্কুল, ক্লিনিক এবং অন্যান্য সেবামুলক কাঠামো তৈরি করতে ২০১৩-২০১৫ অর্থবছরে মোট ২.৪৫ একর জমি কেনা হয়েছিল।

ক্রয়ের পরে কোন ঝামেলা না হলেও ২০১৭ সাল থেকে স্থানীয় দুর্বৃত্তদের সহায়তায় একদল জমি ভূমিদস্যু এই জমিতে নজর রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপায় না পেয়ে সোমবার সিলেট ক্যাথলিক ডায়োসিসের অফিস ইনচার্জ ফাদার সরোজ কস্তা, শাহপরান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে ১৯ জনের নাম প্রকাশ করেন এবং বেশ কয়েকজন নামবিহীন ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন, শাহপরান থানার কল্লগ্রামের মৃত মোতাহার আলীর ছেলে ইছরাক আলী,৫৫, নোয়াগাও গ্রামের আব্দুল খালিকের ছেলে আব্দুল মুকিত,৫৫, খুনিরচক গ্রামের মৃত হবিব আলীর ছেলে ইসলাম উদ্দিন,৬০, একই গ্রামের মখদ্দছ আলীর ছেলে আজিজুর রহমান,৬২, হাবিব আলীর ছেলে আলাল আহমেদ,৬৫, আব্দন নুরের ছেলে ফারুক আহমেদ,৬৫, রহিছ আলীর ছেলে সেবুল আহমদ,৪২, আজিজুর রহমানের মেয়ে পপি বেগম,২৭, আজিজুর রহমানের স্ত্রী জলিতা বেগম,৬৫, আজিজুর রহমানের মেয়ে রাসনা বেগম,৩০, আব্দুর রহমানের ছেলে ফয়সাল আহমেদ,২৫, সিরাজ উদ্দিন,৬০, মো: আব্দুস সোবহান,৫৫, হোসেন আহমেদ,৫০, আপ্তাব হোসেন,৪৫, আব্দুর রাজ্জাক,৬০, ফুলেছা বেগম,৬৫, আদিল আহমেদ,৫২, আব্দুর রহমান,৭৫,।

সেদিন রাতে পুলিশ সিলেট সদর উপজেলার খুনিরচকের আজিজুর রহমান এবং কল্লগ্রামের ইস্রায়েল আলী নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রিপটন পুরকায়স্থ জানান, ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির হওয়ার পরে অভিযুক্তদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে, সিলেট ক্যাথলিক ডায়োসিসের প্রধান বিশপ বিজয় এন ডি ক্রুস সোমবার পুলিশ কমিশনারকে (সিলেট) একটি চিঠি দিয়েছেন যাতে তাদের এবং সম্পত্তির সুরক্ষার আবেদন করা হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফাদার যোসেফ গমেজ জানান, ২০১৭ সালে কিছু লোক জমির উপর তাদের অধিকার দাবি করে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।

তারা ২০১৯ সালে জমিটির উপর নিষেধাজ্ঞার জন্যও আবেদন করেছিলেন, যা পরে শাহপরান থানার তদন্ত রিপোর্টে ক্যাথলিক ডায়োসিয়েসের পক্ষে দেয়।পরে আবার বাদি পক্ষ নিষেধাজ্ঞার জন্যও আবেদন করলে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা জজ সিলেটের সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে তদন্তভার দেন। সেই তদন্ততেও একই রির্পোট আসার পর সিলেটের অতিরিক্ত জেলা জজ বাদি পক্ষের আবেদন খারিজ করে দেন।

তিনি বলেন, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা জায়গা দখলের পায়তারা করে। এসময় তারা অনেক গাছও নষ্ট করে। সেবামুলক প্রতিষ্টানের বিদ্যালয় নির্মানের জায়গা দখলের যে পায়তারা চলছে তা একটি লজ্জাজনক বিষয়।

সাইনবোর্ডে দেওয়া প্রথম নাম্বারে ফোন দিলে মো: ইছরাক আলী এই প্রতিবেদককে জানান, এই জমিটি হলো আমাদের মৌরসী সম্পদ। কাগজপত্র আছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি ফোনের লাইন কেটে দেন। যদিও পরে বারবার ফোন দিলেও তিনি ফোন আর রিসিভ করেন নি।

সিলেট ক্যাথলিক ডায়োসিসের প্রধান বিশপ বিজয় এন ডি ক্রুস বলেন, বিদ্যালয়ের নামে ২.৪৫ একর জমি সিলেট ক্যাথলিক ডায়োসিসের নামে কেনা হয়েছে। ২০১৭ থেকেই আমাদের উপর মামলা করে। তারপরে থেকেই আমাদের উপর ভয়ভীতি সৃষ্টি করে এবং শেষে গিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর তারা সেখানে জোড়পুর্বক সাইনবোর্ড টাংগাতে চায়। তারা পিলার দিতে চায়। না পেরে তারা চারা গাছ উপরিয়ে নষ্ট করে। এই যে যারা কাজটা করছে তারা ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসীমহলসহ বিভিন্ন গ্রুপ যারা নাকি প্রতারণা করে থাকে। তারা চাই যাতে আমরা কমপ্রোমাইজে এসে তাদের টাকা দেয়। আমরা সঠিকমুল্যে যাচাই বাছাই করে জায়গা কিনেছি। তাই আমরা কোন রকম কমপ্রোমাইজে যেতে রাজি নই।আমরা কাউকে চাদা দিতে চাই না। তারা জায়গা দখলের চেষ্টা করছে এজন্য যেন আমরা কমপ্রোমাইজ করে তাদের চাদা দেয়। আমি এর জোড় প্রতিবাদ করি। প্রশাসনের কাছে দাবি যেন আমাদের এই বিপদ থেকে রক্ষা করে।

যোগাযোগ করা হলে, সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার জানান, “আমরা বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। আমরা এখন নিরাপত্তা আরও বাড়িয়ে দেব। ”

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

%d bloggers like this: