জগন্নাথপুর এর নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ, চিন্তিত কৃষককূল

প্রকাশিত: ৫:০৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২২

জগন্নাথপুর এর নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ, চিন্তিত কৃষককূল

হুমায়ূন কবীর ফরীদি, জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ

 

জগন্নাথপুর এর সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। হাওর রক্ষা বেড়িবাঁধ গুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। একটু পানি বৃদ্ধি পেলেই বাঁধ উপচে হাওরে পানি প্রবেশ এর উপক্রম। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে বাঁধ রক্ষায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন কৃষক কূল।
উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলজুর, রত্না, ডাউকা ও কুশিয়ারা সহ সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নলুয়ার হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ গুলোতে পানির চাপ পড়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক বাঁধ রক্ষাকল্পে হাওরপাড়ের কৃষক- জনতা গতকাল ৪ ঠা এপ্রিল দিবাগত রাত থেকে অবিরাম স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধে মাটি ভরাটের কাজ করেছেন।যেকোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করে ফসলের মাঠ তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বিরাজমান। কৃষকেরা আতংকিত।
কৃষক ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায় জগন্নাথপুর উপজেলায় ২৮ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ করা হয়। তারমধ্যে ১৩ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ রয়েছে ঝুঁকিতে। ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্প গুলো হচ্ছে ১, ৫ থেকে ১৪ ও ১৬ ১৭,২০ নং প্রকল্পের বেড়িবাঁধ।
হাওর বাঁচাও আন্দোলন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির বলেন,নলুয়ার হাওরের অধিকাংশ প্রকল্পের কাজের মান সন্তোষজনক নয়। সামান্য বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল এলে এসব বেড়িবাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ সালিকার বেড়িবাঁধ প্রকল্পের সভাপতি শান্তনা বেগম জানান,তার প্রকল্পে সালিকার বাঁধ খুব ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রকল্পে বাঁশ ও বস্তা ধরা হয়নি।এখন ঝুঁকি দেখে বলা হচ্ছে কিছু বাঁশ বস্তা ফেলার জন্য। যতটুকু বলা হচ্ছে আমি ততটুকু করেছি। কিন্তু তা বাঁধ রক্ষায় পর্যাপ্ত নয়।
এ ব্যাপারে জহিরুল, লিলু ডালিম সহ একাধিক কৃষক বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বেড়িবাঁধ এর কাজ না হওয়ায় বাঁধে ফাটল ধরেছে। কোথাও কোথাও বাঁধ চুয়ে হাওরে পানি ঢুকছে। বৃষ্টি -বাদল হলে আমাদের সোনার ফসল পানির নীচে তলিয়ে যাবে। বিষয়টি তদারকি করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জগন্নাথপুর উপজেলার মাঠ কর্মকর্তা হাসান গাজী বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ প্রকল্পসহ সবকটি প্রকল্পে গুরুত্ব দিয়ে কাজ চলছে। আমরা সার্বক্ষণিক তদারকি করছি।
জগন্নাথপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিন ধরে দিনরাত হাওরে আছি। কিছু কিছু এলাকায় বাঁধ রক্ষায় সাধারণ মানুষের স্বতস্ফুর্ত সাড়ায় অভিভূত। গতরাতে কৃষকদের সাথে বেড়িবাঁধগুলোতে ছিলাম। ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করে কাজ চলছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

%d bloggers like this: