জগন্নাথপুরবাসী পানি বন্দী , বিদ্যুৎ সংযোগ ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

প্রকাশিত: ৩:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২২

জগন্নাথপুরবাসী পানি বন্দী , বিদ্যুৎ সংযোগ ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

হুমায়ূন কবীর ফরীদি, জগন্নাথপুর প্রতিনিধিঃ

 

টানা বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী পানি বন্দী হয়ে পড়েছেন। বাড়ী-ঘরে পানি উঠে পড়ার পাশা-পাশি সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। যার ফলে জগন্নাথপুর উপজেলাবাসী ভোগান্তিতে পড়েছেন। উপজেলা বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছেন ভানবাসী জনসাধারণ। বন্ধ রয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ ও ইন্টারনেট সেবা।
বিগত ১৬ ই জুন দিবাগত-রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ডাউকা, রত্না, কুশিয়ারা ও ঢালিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীর পাড় উপচে উপজেলা সদর সহ পাটলী, মীরপুর, কলকলিয়া, রানীগঞ্জ, আশারকান্দী, চিলাউড়া-হলদিপুর, পাইলগাঁ ও সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়ন এর প্রায় ৯৫ ভাগ বাড়ী-ঘরে পানি উঠে পড়েছে। যারফলে অত্রাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়ে পড়েছেন। আজ ১৯ শে জুন সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভানবাসী জনসাধারণ ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে গবাদিপশু সহ উপজেলার উঁচু জায়গায় অবস্থিত আশ্রয় কেন্দ্র গুলোতে এবং আত্বীয় -স্বজন এর বাড়ীতে আশ্রয় নিচ্ছেন। রান্না-বান্নার সুযোগ-সুবিধা না থাকায় খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন ভানবাসী জনসাধারণ। গ্রামীণ রাস্তা- ঘাট পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ার পাশা-পাশি পাগলা- জগন্নাথপুর – আউশকান্দী সড়ক ও জগন্নাথপুর -সিলেট সড়ক পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ায় জেলা সদর সহ রাজধানী শহরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন রয়েছে। ক্রমান্বয়ে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে। বিধায় ভানবাসী মানুষের দুর্ভোগ লাগবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সুনামগঞ্জের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম আব্দুর রহমান বলেন, সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ এর প্রধান অফিসে ও জোনাল অফিস গুলোতে পানি উঠে পড়েছে। আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করার চেষ্টা করছি
জগন্নাথপুর উপজেলা আবাসিক (বিদ্যুৎ) প্রকৌশলী আজিজুল ইসলাম জানাল, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আঁকার ধারণ করায় সিলেটের বরইকান্দি বিদু্যতের সাবস্টেশন পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে। ওই সাবস্টেশন থেকে জগন্নাথপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। আমরা চেষ্টা করছি বিদ্যুৎ সচল রাখার।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেদুল ইসলাম বলেন, পানি বন্দী মানুষের জন্য আশ্রম কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌছে দিতে আমরা তৎপর রয়েছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

%d bloggers like this: