জৈন্তাবাসীর হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান বানিয়ে চলে গেলেন জনাব সিরাজ উদ্দীন আহমেদ। এম.মুশতাক আহমদ 

প্রকাশিত: ২:১৫ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৯, ২০২২

জৈন্তাবাসীর হৃদয়ের মনিকোঠায় স্থান বানিয়ে চলে গেলেন জনাব সিরাজ উদ্দীন আহমেদ।  এম.মুশতাক আহমদ 

 

 

সিরাজ উদ্দীন আহমেদ একটি নাম,একটি ইতিহাস,একজন সত্যিকারের জনদরদী,জৈন্তার মাটি ও গণমানুষের নেতা,অবহেলিত জৈন্তার অধিকার আদায়ের এক বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর।অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অকতোভয় সৈনিক। জৈন্তাবাসীর সকল ন্যায্য দাবি আদায়ে তিনি ছিলেন অগ্রপথিক।অনৈসলামিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ছিলেন এক সীসেঢালা প্রাচীর।একজন নামাজী-পরহেজগার এক সজ্জন ব্যাক্তিত্ব।

 

প্রান্তিক জনপদ ঐতিহাসিক জৈন্তাপুরের নিজপাট চুনাহাটি গ্রাম তাঁর পৈতৃক নিবাস।তিনি ২৮শে ফেব্রুয়ারী ১৯৪৯ ঈসায়ী সনে এক সম্ভান্ত-ধার্মিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তার পিতা মৃত জনাব আলহাজ্ব রশীদ আলী তাঁর মাতা মৃত হামিদা খাতুন।উভয়ই ছিলেন অত্যন্ত ধার্মিক ও শিক্ষানুরাগী।

 

তিনি ছিলেন প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ সাহেবের জাতীয় পার্টির অন্যতম নেতা।রাজনেতিক ভাবে জাতীয় পার্টি সমর্থিত হলেও সকল দলের সকল মতের মানুষের সাথে সমান চলাফেরা।তিনি জৈন্তাপুর উপজেলার প্রথম প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।তিনি ঐতিহ্যবাহী জৈন্তিয়া সতের পরগনা সালিশ সমন্বয় কমিটির দীর্ঘদিনের সভাপতি।অবহেলিত এই জনপদে গণমানুষের ন্যায দাবি আদায়ে তার বিকল্প কেউ ছিলেন না।প্রাকৃতিক দূর্যোগে তিনি ছুটে চলেছেন মানুষের ধারে,কারো কাছ থেকে নয় বরং নিজের পকেটের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন বিভিন্ন দুর্যোগে।কোন কৃত্রিমতা ছিলনা তাঁর কাজকর্মে,ছিলনা কোন আত্মম্ভরিতা।যে কারো সাথে মিশতেন অনায়াসে, আপন করে নিতেন তাকে।

 

তিনি ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী।ধর্মীয় ও জাগতিক শিক্ষার প্রচার ও প্রসারে তাঁর যতেষ্ট অবদান রয়েছে এই অঞ্চলে,তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন কয়েকটি স্কুল ও মাদরাসা।ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে যাতে এ এলাকার সন্তানগুলো দীক্ষিত হতে পারে তাই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন জৈন্তিয়া ক্বওমী ক্যাডেট স্কুল এন্ড মাদরাসা।তিনি ঐতিহ্যবাহী আশরাফুল উলূম নিজপাট মাদরাসার আমৃত্যু সভাপতি ছিলেন।ছিলেন মাদরাসার এক দাতা ও হিতাকাঙ্ক্ষী।তাঁর অর্থায়নে নির্মিত জৈন্তার উপজেলা অভ্যন্তরে এক অবস্থিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ড.বিয়াম কুদরতুল্লাহ।

 

তিনি ছিলেন জৈন্তার এক অবিভাবক,এই জনপদের মানুষগুলোর আলাদা এক আস্থা ও ভক্তি ছিল তার প্রতি।তাঁর কথায় মিনিবাস ছেড়ে পায়ে হেটে যাতায়াত বেঁছে নিয়েছিল এই জৈন্তার মানুষ।সে এক অনন্য ইতিহাস!

 

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হওয়া সত্বেও দেশের মাটি ও ভালোবাসার মানুষের টানে সেদেশে যাওয়া তাঁর পছন্দ ছিলনা।অসুস্থতা ও বার্ধক্যজনিত কারণে পরিবারের চাপে অবশেষে যেতে বাধ্য হন।যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি নিজপাট ঈদগাহ মাঠে তিনি কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, জৈন্তা ছেড়ে আমেরিকায় যাওয়া আমার কাছে মোটেও পছন্দনীয় নয়,আমার মন চায় এই মাটিতে আমি থাকব এখানেই আমার মৃত্যুবরন করব আর দাফন হবে এই গোরস্থানে কিন্তু পারিবারিক চাপে যেতে বাধ্য। আপনারা আমাকে ক্ষমা করবেন।

 

জৈন্তার মাটি মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন জনাব সিরাজ উদ্দীন আহমেদ গতরাত (২৪ আগস্ট বুধবার)বাংলাদেশ টাইম ৯.৩০মিনিটের আমেরিকার মিশিগানে তাঁর বাস ভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন!

 

জৈন্তাবাসীর চাওয়া ছিল জীবনে শেষ দেখা হবে তাঁর সাথে জানাজা হবে,দাফন হবে এখানে।কিন্তু পারিবারিক সিদ্ধান্তে আমেরিকাতেই তাঁর দাফন -কাফন ও জানাজা সম্পন্ন হয়।

চলে গেলেন সিরাজ উদ্দীন সাহেব চিরজীবনের জন্য রেখে গেলে তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসা।জৈন্তাবাসীর হৃদয়ের মনিকোঠায় অমর হয়ে থাকবেন তিনি।

 

দোয়াকরি,আল্লাহপাক তাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা হিসেবে যেন কবুল করেন।আমিন।।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

%d bloggers like this: