আফগান শান্তি চুক্তির জন্য প্রধান আলোচকের নাম ঘোষণা করেছে তালেবান

প্রকাশিত: ৩:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২০

আফগান শান্তি চুক্তির জন্য প্রধান আলোচকের নাম ঘোষণা করেছে তালেবান

দৈনিক দিনরাত:

আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে কাতারে প্রথমবারের মতো সরাসরি শান্তি আলোচনায় বসতে যাচ্ছে আফগানিস্তানের বিবদমান পক্ষগুলো। দেশের দীর্ঘতম যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এই সুযোগটাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।

আফগান-অভ্যন্তরীণ সংলাপ হিসেবে পরিচিত মার্কিন মধ্যস্থতার এই আলোচনায় অংশ নিবে আফগান সরকার ও তালেবানদের প্রতিনিধিরা।

তালেবানরা শনিবার তাদের ২১ সদস্যের আলোচক টিমের নাম ঘোষণা করেছে, যাদের নেতৃত্ব দিবেন মৌলভি আব্দুল হাকিম। কট্টরপন্থী এই নেতা তালেবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুনজাদার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। আফগানিস্তানে তালেবানের কর্তৃত্বাধীন এলাকায় পরিচালিত বিচার ব্যবস্থার প্রধান হলেন হাকিম।

তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ ভিওএ-কে বলেন, “আফগান-অভ্যন্তরীণ সংলাপের জন্য আমরা একটা শক্তিশালী ও সমন্বিত টিম গঠন করেছি। ইসলামিক আমিরাতের (তালেবান) রেহবার-ই শুরা (তালেবান নেতৃত্ব কাউন্সিল) সদস্যরা মূলত এই টিমে রয়েছেন এবং প্রধান বিচারপতিকে এর প্রধান নিযুক্ত করা হয়েছে”।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন আলোচক টিম মূলত স্থায়ী অস্ত্রবিরতি এবং আফগানিস্তানকে শাসনের জন্য ক্ষমতা ভাগাভাগির একটা ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ঐক্যমতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।

আফগান অর্থমন্ত্রী মুস্তাফা মাসতুর শনিবার এক অনলাইন ফোরামকে জানান যে, কাবুলের আলোচক টিম ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’।

অস্ত্রবিরতি

অস্ত্রবিরতির বিষয়টি কাবুলের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু তালেবানদের সাথে প্রথম বৈঠকেই সেটা নাও উঠতে পারে। পাকিস্তান-ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আয়োজিত ফোরামে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

মাসতুর বলেন, “প্রথম বৈঠক হবে মূলত একে অন্যের সাথে কুশল বিনিময়। এরপর সহজ ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে কঠিন ইস্যুগুলো আসবে”।

আফগানিস্তানে নিযুক্ত ন্যাটোর বেসামরিক প্রতিনিধি স্টেফানো পন্টিকর্ভো সতর্ক করে দিয়ে বলেন সংলাপটা সহজ হবে না এবং উভয় পক্ষকেই এখানে ‘নমনীয়তা, সৎ বিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির’ পরিচয় রাখতে হবে।

পন্টিকর্ভো বলেন, “প্রথমে আলোচনার এজেন্ডার শুরুতেই সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে নিয়ে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এই প্রক্রিয়ার ফলাফলের ব্যাপারে মানুষের আস্থা তৈরি হয়। টেকসই ফল পেতে হলে মানুষের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ”।

‘রাজনৈতিক অনৈক্য’

পন্টিকর্ভো উদ্বেগের সাথে বলেন যে, কাবুলের রাজনীতিকদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে রাষ্ট্রীয় আলোচক টিমের কাজের গুরুত্ব কমে যেতে পারে।

তিনি বলেন, “এতে সন্দেহ নেই যে, আফগান নেতৃবৃন্দের অনৈক্যের বিষয়টি ন্যাটো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, এবং আমাদের সবার জন্যই উদ্বেগের, কারণ এটা তাদের সমন্বয়ের উপর প্রভাব ফেলবে”।

এদিকে আলোচনা অবিলম্বে শুরু করার জন্য দোহা সফর করছেন আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন বিশেষ দূত জালমাই খলিলজাদ।

শুরু হয়েছিল ৯/১১ এর পরে

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আমেরিকায় সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালালে আফগান যুদ্ধের শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রে হামলাকারী আল কায়েদা আফগানিস্তানের গোপন আস্তানা থেকে ওই হামলা পরিচালনা করেছিল।

দীর্ঘ এই যুদ্ধে বেসামরিক আফগান, বিদেশী সেনাসহ ১৫০,০০০ জন নিহত হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে দারিদ্রের মধ্যে পড়েছে আরও বহু মিলিয়ন মানুষ।

Source ভিওএ